পাকুন্দিয়া উপজেলার সব সংবাদসহ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলার সংবাদ দেখতে ক্লিক করুন => Pakundiapratidin.news ** আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া সকল সংবাদ আমাদের জানাতে পেইজে মেসেজ দিন অথবা হোয়াটস্অ্যাপে যোগাযোগ করুন- 01683130971 ** যে কোনো বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01401300029 অথবা 01303405500 **

পাকুন্দিয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ, জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে ধানক্ষেত ও পানের বরজ

 


আবু হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের বর্ষাগাতী ও নামা মির্জাপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১০ একর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ধানচাষি ও পানের বরজ মালিকরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বছরে বিভিন্ন মৌসুমে ধান চাষের পাশাপাশি পানের বরজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। কিন্তু পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমে থাকা পানি নামতে পারছে না। ফলে ধানক্ষেত ও পানের বরজে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

বর্ষাগাতী গ্রামের কৃষক ছিদ্দিক হোসেন ওরফে বাবুল মিয়া (৬০) বলেন,

“কৃষিকাজ করেই আমার সংসার চলে। ৪৫ শতাংশ জমিতে পান চাষ করেছিলাম। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বরজে পানি জমে সব পানের গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইসরাইল মিয়া, রেজিয়া খাতুন, সবুজ ও রতন মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি জায়গা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে পুরো এলাকার কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রিয়াজ উদ্দিন, ইউসুফ, সাহাব উদ্দিন, রফিক, মোজাম্মেল, হেলাল, রতন ও দুলাল মিয়াসহ অনেকেই জানান, খালের মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বিলের পানি নামতে পারছে না। এতে বর্ষাগাতী ও নামা মির্জাপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে।

কৃষক দুলাল মিয়া (৪৫) বলেন,

“পানি নিষ্কাশনের রাস্তা না থাকায় ধানক্ষেত ও পানের বরজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে রেজিয়া খাতুন বলেন,

“সরকারি জায়গা দিয়ে খাল আছে, প্রশাসন সেটি উদ্ধার করে পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করুক। আমার ব্যক্তিগত জায়গা দিয়ে পানি যেতে দেওয়া হবে না।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসরাইল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে লিটন বলেন,

“আমাদের জায়গা দিয়ে পানি দেওয়া হবে না।”

এ বিষয়ে  পাকুন্দিয়া উপজেলায় নিবাহী অফিসার রুপম দাস বলেন,

“সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে পানি অপসারণের  প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

পাকুন্দিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রিফাত জাহান বলেন,

“ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Post a Comment

Previous Post Next Post