আবু হানিফ : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত রাতে উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের আউলিয়ার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে অভিযানে সহযোগিতা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামান মিয়া (২৮), পিতা: নুরু মোহাম্মদ, গ্রাম: আউলিয়ার পাড়া—তাকে মাদক সেবনের দায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মো. রাজু (২৪), পিতা: আব্দুল খালেক, একই গ্রামের বাসিন্দা—মাদক বিক্রির দায়ে তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
মো. শিহাব (২৭), পিতা: শফিকুল ইসলাম, গ্রাম: শিমুলিয়া—মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে পারিবারিক অশান্তি ও সহিংসতায় জড়িত থাকায় তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাদের কারণে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এ ব্যাধি নির্মূলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



