পাকুন্দিয়া উপজেলার সব সংবাদসহ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলার সংবাদ দেখতে ক্লিক করুন => Pakundiapratidin.news ** আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া সকল সংবাদ আমাদের জানাতে পেইজে মেসেজ দিন অথবা হোয়াটস্অ্যাপে যোগাযোগ করুন- 01683130971 ** যে কোনো বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01401300029 অথবা 01303405500 **

সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা



কিশোরগঞ্জে একটি ইটভাটা জোরপূর্বক দখল এবং এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​উক্ত মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

​আজ রোববার (৫ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমল গ্রহণকারী আদালত-৫) আদালতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন রুবেল বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।


আদালতের বিচারক মো. এমরান অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



মামলার অন্য আসামিরা হলেন, কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর মীরের পাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে ওমর নূর অমিত (৩৬), ​মৃত বুলু মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম (৫০), ​মৃত অনু মিয়ার ছেলে পারভেজ খান (৩৫), চালত গ্রামের মেনু মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন লিটন।


মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের মালিকানাধীন ‘বিশ্বাস ব্রিকস লিমিটেড (বিবিএল)’ নামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা লিজ নিয়ে ব্যবসা করার জন্য বাদী সালাহ উদ্দিন রুবেলকে প্রলুব্ধ করেন সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ। আসামিদের কৌশলী ফাঁদ বুঝতে না পেরে বাদী ৫ বছরের জন্য নগদ ৪৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ইটভাটাটি ভাড়া নেন। এরপর পরিত্যক্ত ভাটাটিকে সচল করতে তিনি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন। সেখানে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ, নতুন কিলিং ও মাঠ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচে পরিত্যক্ত ইটভাটাটিকে একটি আধুনিক ও উৎপাদনমুখী কারখানায় রূপান্তর করেন তিনি।

​পরবর্তীতে ২০২০ সালে ইট উৎপাদন শুরু হলে ভাটাটি দ্রুত লাভজনক হয়ে ওঠে। ২০২০-২১ মৌসুমে ভাটায় যখন প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১ কোটি পোড়া ইট, ৩ কোটি টাকার ৫০ লাখ কাঁচা ইট এবং ৫০ লাখ টাকার মাটিসহ সর্বমোট ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ মজুত ছিল, তখনই আসামিরা এটি দখলের পাঁয়তারা করেন।


​অভিযোগে আরও বলা হয়, বিপুল এই সম্পদ দেখে লোভের বশবর্তী হয়ে আসামিরা অজ্ঞাতনামা একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইটভাটায় হামলা চালায় এবং বাদীকে জোরপূর্বক সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।


উচ্ছেদের সময় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে বাদীকে জিম্মি করে ফেলে। এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর কটিয়াদী শাখার ‘মেসার্স রুবেল মটরস’ এবং ‘বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম’-এর বেশ কিছু ব্ল্যাংক (অলিখিত) চেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

​এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদের শরণাপন্ন হলে তিনি বাদীর বিনিয়োগকৃত ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ভাড়ার ৪৫ লাখ টাকা এবং যন্ত্রপাতির ৭০ লাখ টাকাসহ মোট ১৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং জোরপূর্বক নেওয়া স্বাক্ষরিত চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।


​তবে পরবর্তীতে ১ ও ২ নম্বর আসামিরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইটভাটা ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এ নিয়ে আর কোনো বাড়াবাড়ি করলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণভয়ে একপর্যায়ে বাদী দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।




বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসাইন বলেন, “আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিনে অনুসন্ধান করে সাক্ষীদের জবানবন্দিসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে কিশোরগঞ্জের পিবিআই পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”

Post a Comment

Previous Post Next Post