হুমায়ুন কবির: দীর্ঘদিন গাইনী চিকিৎসক না থাকায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্ধ ছিলো অপারেশন থিয়েটার। অবশেষে গাইনী চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণ হলেও গত তিন মাস ধরে রোগীর অভাবে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। প্রচারের অভাবে সিজারিয়ান রোগী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন না বলে মনে করছেন অনেকে। তবে রোগী আসা মাত্রই সিজারের জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দীর্ঘ একযুগ বন্ধ থাকার পর ২০২২সালের ২০জুন পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার চালু হয়। চালু হওয়ার পর দুই বছর অপারেশন কার্যক্রম চলে। এতে ২৩৮টি সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। ২০২৪সালের ২৪ডিসেম্বর হাসপাতালের জুনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (গাইনী) ডা.শাহ মোহাম্মদ হাসানুর রহমান অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যান। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় অপারেশন কার্যক্রম।
চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে গাইনীসহ ৭জন চিকিৎসক হাসপাতালটিতে যোগদান করেন। অপারেশন থিয়েটার ঠিকঠাক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিকিৎসক থাকলেও রোগীর অভাবে গত প্রায় তিন মাসে একটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়ার পর ব্যাপক সাড়া পড়ে। প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রায় বিনামূল্যে হাসপাতালটিতে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ পান। এর ফলে তাদের একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হতো তেমনি জেলা শহরের দৌড়াদোড়ি থেকে রেহাই পেতেন। কিন্তু হঠাৎ করে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ সেবাগ্রহীতারা বিপাকে পড়েন। পুনরায় অপারেশন থিয়েটার চালু হলেও বিষয়টি সাধারণ মানুষ জানেন না। এজন্য তারা উপজেলা হাসপাতালে না এসে জেলা শহরে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩৮ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৪ জন। প্রতিদিন ৫০০-৬০০ নারী-পুরুষ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। গাইনী চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এখন গাইনী চিকিৎসক রয়েছে কিন্তু সিজারিয়ান রোগী নেই। তবে সিজারের রোগী এলে যে কোনো সময় অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীর অভাবে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। রুমটি বর্তমানে তালাবদ্ধ রয়েছে। বহির্বিভাগে সাধারণ লোকজন চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
পৌর সদরের আনোয়ার খালী গ্রামের ইকবাল বলেন, কিছুদিন আগে আমার বোনের সন্তান প্রসব হয়েছে। প্রসব বেদনা শুরু হলে দ্রæত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু গাইনী চিকিৎসক না থাকায় আমাদেরকে বাধ্য হয়ে জেলাসদরে যেতে হয়েছে। এতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। হাসপাতালটিতে গাইনী চিকিৎসক আসায় সিজারিয়ান অপারেশনসহ প্রসূতি মায়েদের অনেক উপকার হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম বলেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ না থাকায় ২০২৪ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর থেকে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকে। কিছুদিন আগে গাইনী চিকিৎসকের পদ পূরণ হয়েছে। এখনো কোনো সিজারিয়ান পেসেন্ট আসেনি। এলে অপারেশন থিয়েটার চালু হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো.জালাল উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিই। বর্তমানে হাসপাতালে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন। আশা করছি পাকুন্দিয়া উপজেলাবাসী কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।




