আবু হানিফ: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার তারাকান্দি বাজার জামে মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও মসজিদের নামে জায়গা ক্রয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (০৮ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় তারাকান্দি ঈদগাহ মাঠে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে সাবেক ছাত্রদল সদস্য আজিজুল হক মুন্না তারাকান্দি বাজারের ইজারা, মসজিদের আয়-ব্যয় এবং জমি ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মসজিদের মোতাওয়াল্লি শফিকুল ইসলাম বলেন,
“তারাকান্দি বাজারের ইজারা কার্যক্রম সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। জনগণের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ফেসবুক লাইভে মসজিদের আয়-ব্যয় ও দুর্নীতির বিষয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব নথিপত্রের কোনো মিল নেই। মসজিদের সকল ব্যয় ভাউচার কমিটির সভায় উপস্থাপনের পর যাচাই-বাছাই শেষে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। পরে সভাপতি ও ক্যাশিয়ারের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই মনগড়া বক্তব্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, বাজার ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অযোগ্য ঘোষিত হওয়া কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এ অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
মসজিদের জায়গা ক্রয়ের বিষয়ে বক্তারা জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, দাতা ও মসজিদ কমিটির উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে জমি ক্রয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সকল দালিলিক কাগজপত্র ও আর্থিক লেনদেন যথাযথ নিয়মে সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, “মসজিদের মতো একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল।”
তারা জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী মানহানিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অবিলম্বে কুরুচিপূর্ণ লাইভ অপসারণ করে ক্ষমা না চাইলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় সাধারণ জনগণ ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বা ভিডিওতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম রফিক মাস্টার, সহ-সভাপতি মাওলানা মুস্তাকিভুর রহমান, মুহাদ্দিস হাকিম, মো. হেলাল উদ্দিন, আ. হান্নান, মো. মিলন, মো. হিমেল মিয়াসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা আজিজুর রহমান মুন্না একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই ফেসবুকে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। মসজিদের মুতাওয়াল্লী সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিনা টেন্ডারে বাজার ইজারা দিয়েছেন এবং মসজিদের উন্নয়নের জন্য ৯ লাখ টাকা উত্তোলন করলেও কোনো কাজ করেননি। তাছাড়াও চার বছর আগে জমি কেনার জন্য ১ কোটি টাকা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেই জমি রেজিস্ট্রি হয়নি।”



