পাকুন্দিয়া উপজেলার সব সংবাদসহ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলার সংবাদ দেখতে ক্লিক করুন => Pakundiapratidin.news ** আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া সকল সংবাদ আমাদের জানাতে পেইজে মেসেজ দিন অথবা হোয়াটস্অ্যাপে যোগাযোগ করুন- 01683130971 ** যে কোনো বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01401300029 অথবা 01303405500 **

পাকুন্দিয়ায় পশু জবাই, চামড়া সংরক্ষণ ও লবণের সঠিক ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত




আবু হানিফ: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পশু জবাই, কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ এবং সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণকৃত লবণের সঠিক ও সময়মতো ব্যবহার বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চামড়ার গুণগত মান রক্ষা, অপচয় রোধ এবং কোরবানির পর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে  আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, কসাই, খামারি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামান্য অসচেতনতা ও সংরক্ষণে অবহেলার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। তাই চামড়া সংগ্রহের পর দ্রুত ও সঠিক নিয়মে লবণ ব্যবহার করে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


কর্মশালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, সরকার চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই চামড়া সংরক্ষণ করতে পারেন। কিন্তু সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আকবর প্রশিক্ষণে কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই করা হলে রোগজীবাণুর সংক্রমণ কমে এবং পরিবেশ দূষণও রোধ করা সম্ভব হয়।সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রূপম দাস বলেন, জাতীয় সম্পদ চামড়াকে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করে রপ্তানিযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সরকার ইতোমধ্যে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সারাদেশের ন্যায় এ উপজেলায় ১৮টি এতিমখানা মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ৮ হাজার কেজি লবণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং পশুর চামড়ায় সঠিক উপায়ে লবণ ব্যবহারের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।


এ সময় উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তামান্না দিলশাদ রিমি চামড়া সংরক্ষণের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে বলেন, কোরবানির পরপরই চামড়া থেকে অতিরিক্ত মাংস ও চর্বি পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ ব্যবহার করতে হবে। চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে লবণ সঠিকভাবে না পৌঁছালে দ্রুত পচন ধরতে পারে। তিনি চামড়া শুকনো ও ঠাণ্ডা স্থানে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন।


প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং কোরবানির সময় স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোরবানির চামড়ার অপচয় কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।


Post a Comment

Previous Post Next Post