কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আম পাড়তে গিয়ে দেওয়াল ধসে গুরুতর আহত হওয়া ১১ বছর বয়সী শিশু আরাবির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১০ মে) দুপুরে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, সকালে ঢাকার শাহবাগ পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আরাবি কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনার মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় নুরুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আরাবি তার বন্ধুর সঙ্গে এলাকার একটি বাসার নিচে আম পাড়তে যায়। আমগাছের নিচে আরাবি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার এক বন্ধু দেওয়ালে ওঠার চেষ্টা করে। এ সময় পুরাতন ও নড়বড়ে দেওয়ালের একটি বিশাল অংশ ভেঙে সরাসরি আরাবির শরীরের ওপর পড়ে। এতে সে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে আজ রবিবার সকালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরাবির এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন মেধাবী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এমন বিদায়ে নিহতের সহপাঠী এবং প্রতিবেশীদের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে। আজ বিকেলের দিকে মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি আজ সকালে ঢাকায় মারা গেছেন। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছি। মূলত একটি দেয়াল ধসে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেয়ালটি শিশুর পায়ের ওপর পড়েছিল, তবে মাথায় আঘাত লাগেনি।




