কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় এক বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিয়ের মাত্র দুই ঘণ্টা পরই প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করেছেন এক কলেজছাত্রী। শুক্রবার (রাত) উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গনেরগাঁও গ্রামের মো. মেনু মিয়ার মেয়ে বন্যা আক্তারের সঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলার কলাদিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের সৌদি প্রবাসী ছেলে মো. হৃদয় মিয়ার বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়। ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিননামা সম্পন্ন হওয়ার পর বরযাত্রীদের আপ্যায়নও শেষ হয়।
এ সময় হঠাৎ করে মাসুদ নামে এক যুবক মোটরসাইকেলে বিয়ের আসরে এসে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, বন্যা আক্তারের সঙ্গে তার দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। নিজের দাবির পক্ষে তিনি মোবাইলে তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি উপস্থিত লোকজনকে দেখান।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কনের পক্ষের লোকজন মাসুদকে মারধর করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কিছু সময় পর তার জ্ঞান ফিরে আসে।
ঘটনার পর নাটকীয় মোড় নেয় পুরো পরিস্থিতি। নববধূ বন্যা আক্তার প্রকাশ্যে জানান, তিনি প্রেমিক মাসুদের সঙ্গেই সংসার করতে চান। পরবর্তীতে প্রবাসী স্বামী হৃদয় মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তালাক সম্পন্ন হয়।
এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে একই স্থানে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে বন্যা আক্তারের সঙ্গে প্রেমিক মাসুদ মিয়ার (২৪) বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে বন্যা আক্তার বলেন, “মাসুদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। পরিবারের চাপে পড়ে প্রবাসী ছেলেকে বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।




