বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পোড়াবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে শিয়ালটি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে থাকা গরুর ওপর আক্রমণ চালায়। এতে মোফাজ্জলের একটি, মাসুদের দুটি, সবুজের একটি, আউয়ালের একটি, শহিদের একটি, মজিবুরের একটি এবং অপর এক ব্যক্তির একটি গরুসহ মোট আটটি গবাদিপশু আহত হয়। শিয়ালের কামড়ে প্রাণীগুলোর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে শিয়ালটি বোরহান উদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে কামড়ে আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পান। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে শিয়ালটিকে ধাওয়া করেন। দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া করার পর শিয়ালটিকে আটক করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পোড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান রাজন বলেন, "শিয়ালটি মানুষ ও গবাদিপশুকে কামড়ে আহত করার পরও গ্রামজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে সেটিকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে।"
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান বলেন, "শিয়ালের কামড়ে আহত বোরহান উদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
এদিকে গবাদিপশুর চিকিৎসার বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আকবর বলেন, "পাগলা শিয়াল বা কুকুরের কামড়ে আহত গবাদিপশুর জন্য সরকারি কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। তবে আক্রান্ত গবাদিপশুর মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসা-পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"



