কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহিন আলম জনির একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলীয় মূল্যায়ন ও নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
পোস্টে শাহিন আলম জনি লেখেন, রাজনীতি থেকে মাঝে মাঝে দূরে সরে যেতে ইচ্ছে হলেও তা সম্ভব হয় না, কারণ জাতীয়তাবাদ তার রক্তে মিশে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে “নতুন জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগের ভিড়ে” নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা আগে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাও এখন বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে, যারা একসময় দলীয় কোনো পদ নিতে অনাগ্রহী ছিলেন, তারাই এখন প্রথম সারির নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ত্যাগ, সংগ্রাম, মামলা-হামলা, জেল-জুলুম এবং রাজপথের আন্দোলনে অংশ নেওয়া—এসব কি জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কিনা, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শাহিন আলম জনি লিখেছেন, “বুকফাটা কষ্ট, নিরবে চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই,” এবং নিজের জীবন নষ্ট করে ফেলেছেন কিনা তা নিয়েও অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
তবে হতাশার মধ্যেও দলের প্রতি তার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের দুঃসময়ে তিনি আবারও রাজপথে সক্রিয় থাকবেন। তার ভাষায়, “ত্যাগীরা অভিমানী হয়, বেইমান না।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, তৃণমূলের মানুষের মাঝে থাকতে চান এবং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে যেতে চান।
শাহিন আলম জনির এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।




