পাকুন্দিয়া উপজেলার সব সংবাদসহ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলার সংবাদ দেখতে ক্লিক করুন => Pakundiapratidin.news ** আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া সকল সংবাদ আমাদের জানাতে পেইজে মেসেজ দিন অথবা হোয়াটস্অ্যাপে যোগাযোগ করুন- 01683130971 ** যে কোনো বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01401300029 অথবা 01303405500 **

হোসেনপুর উপজেলার ক্যানসার আক্রান্তদের অর্ধেকই তামাক–সংশ্লিষ্ট

 



‎কিশোরগঞ্জের একটি উপজেলায় প্রায় অর্ধেক ক্যানসার রোগীর অসুস্থতার পেছনে তামাক ব্যবহারের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ার জন্য তামাককে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এই গবেষণায়।


‎হোসেনপুর উপজেলার ২ লাখ ৩২ হাজার বাসিন্দার ওপর চালানো এই জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রিতে দেখা গেছে, সেখানকার ৪৬ শতাংশ ক্যানসার রোগী তামাক সেবনজনিত বিভিন্ন ক্যানসারে ভুগছেন। এর মধ্যে ঠোঁট ও মুখের গহ্বর, স্বরযন্ত্র, পাকস্থলী এবং ফুসফুসের ক্যানসার সবচেয়ে বেশি।


‎গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ক্যানসার রোগীদের প্রায় ৭৩ শতাংশের ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে। অন্যদিকে নারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যারা ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল ইত্যাদি) ব্যবহার করেছেন।


‎দেশে ক্যান্সারের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ কোনো তথ্য নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৪ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তামাকের ব্যবহারজনিত এই ক্যান্সারগুলোই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিএমইউয়ের ফলাফলের সঙ্গে ডব্লিউএইচওর এই


‎ডব্লিউএইচওর তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ছিল ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই হার বৈশ্বিক ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে বেশি।


‎তামাক নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর আইন অনুমোদন করলেও দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তামাক ব্যবহার করায় এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।


‎গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছর ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী আনুমানিক ৩ কোটি ৭১ লাখ মানুষ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ধূমপায়ী ছিলেন ১ কোটি ৯৭ লাখ।


‎এমন বাস্তবতায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। 


‎ক্যানসার নিয়ে গবেষণায় বিএমইউর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরম্যাটিকস বিভাগ দেশে প্রথমবারের মতো জনসংখ্যাভিত্তিক রেজিস্ট্রি চালু করে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জামান। গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ৫১ হাজার ৯০০ পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


‎গবেষণায় ২৪৫ জন ক্যানসার রোগী শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে ১২৯ জন পুরুষ এবং ১১৬ জন নারী। প্রতি লাখে ক্যানসার আক্রান্তের হার ১০৯ দশমিক ১।


‎গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি (২৮ দশমিক ৬ শতাংশ)। এরপরই রয়েছে ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী গ্রুপ (২৪ দশমিক ৫ শতাংশ)।


‎গবেষক দলটি ১ লাখ ২৮ হাজার অংশগ্রহণকারীর ফলোআপ বা পরবর্তী অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে। এতে ৬৯ জন নতুন রোগী (প্রতি ১ লাখে ৫৩ দশমিক ৬ জন) শনাক্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুহার ১১ দশমিক ১ শতাংশ।


‎পুরুষ ক্যান্সার রোগীদের ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ ধূমপান করতেন বলে জানিয়েছেন। তবে নারী রোগীদের কেউ ধূমপান করার কথা জানাননি। তবে তথ্যে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।


‎গবেষণায় ৩৮ ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২ জন (১৭ শতাংশ) স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এরপরই রয়েছে ১৯ জন (৭ দশমিক ৮ শতাংশ) ঠোঁট ও মুখগহ্বরের রোগী।


‎গবেষক খালেকুজ্জামান জানান, এই ৩৮ ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ১৪টি তামাকজনিত। মোট ক্যান্সার রোগীর ৪৬ শতাংশই তামাকজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত।


‎তথ্যে দেখা যায়, ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারের হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে কণ্ঠনালি বা ল্যারিংক্স ক্যান্সার (৬ দশমিক ৯ শতাংশ), পাকস্থলী ক্যান্সার (৬ দশমিক ১ শতাংশ), জরায়ু ক্যান্সার (৫ দশমিক ৩ শতাংশ), ফুসফুস ক্যান্সার (৪ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং খাদ্যনালির ক্যান্সার (৪ দশমিক ৫ শতাংশ)।


‎ডব্লিউএইচওর ক্যান্সার গবেষণা শাখা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের (আইএআরসি) তৈরি গ্লোবোক্যান ২০২২ অনুযায়ী, পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি ক্যান্সার হলো—খাদ্যনালি, ঠোঁট ও মুখগহ্বর, ফুসফুস, হাইপোফারিক্স এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার।


‎আর নারীদের ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচটি ক্যান্সার হলো—স্তন, জরায়ু, খাদ্যনালি, পিত্তথলি এবং ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার।


‎খালেকুজ্জামান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে দেশে ক্যান্সার বাড়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ তামাক ব্যবহার।


‎তিনি আরও বলেন, ‘তবে তামাক পরিহার করার মাধ্যমে তামাকজনিত ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ক্যান্সারের ক্রমবর্ধমান বোঝাও কমানো যেতে পারে।’


‎দেশে এখন ধোঁয়াবিহীন তামাক সামাজিকভাবে অনেকটা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাই এর ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপে আরও বেশি জোর দিতে হবে। কারণ, গবেষণায় উঠে আসা অন্যতম প্রধান ক্যান্সার—ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারের মূল কারণ এটি।



-ডেইলি স্টার অনলাইন




Post a Comment

Previous Post Next Post