ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর ও কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। সাবেক ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ চুন্নু কিশোরগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মোরগ প্রতীক নিয়ে ও ইকবাল কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর মুখোমুখি হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি থেকে ২১ জানুয়ারি তাদের বহিষ্কার করা হয়। সর্বশেষ তাদের পক্ষ নিয়ে নির্বাচনি প্রচারাভিযানে নামা ১৭ নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ভোটের মাঠে বিদ্রোহীদের অবস্থান বিএনপি প্রার্থীদের অনেকটা চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। একই সঙ্গে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে।
জানা গেছে, চুন্নু ২০০৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০৭ ও ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি লাঞ্ছিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। চুন্নুসহ অন্য প্রার্থীরা এক হয়ে মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন-বিক্ষোভ করেন। কোনো ফল না পেয়ে চুন্নু বিদ্রোহী প্রার্থী হন। এ বিষয়ে মাজহারুল ইসলাম বলেন, দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী আমার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এ বিষয়ে জানতে চুন্নুর মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ইকবাল ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মুখে মনোনয়ন পরিবর্তন করে প্রয়াত বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হন ইকবাল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান ইকবাল। এবারের নির্বাচনেও ইকবালকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপির মনোনয়ন পান। এতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ইকবাল রাজপথ-রেলপথ-নৌপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে অবশেষে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এহসানুল হুদা বলেন, এবার নির্বাচনে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যারা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ইকবাল বলেন, আমি প্রার্থী হইনি। নিকলী-বাজিতপুরের মানুষ আমাকে প্রার্থী করেছেন। তাদের আমি ছেড়ে যেতে পারি না। আমি হাঁস দিয়ে ধান খাইয়ে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানকে আসনটি উপহার দেব।
.jpg)



